শুক্রবার ০১ মে ২০২৬
সম্পূর্ণ খবর
Rahul Majumder | | Editor: Syamasri Saha ১৮ জুন ২০২৫ ১৯ : ২০Rahul Majumder
আমরা প্রত্যেকে জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এক ‘পক্ষীরাজের ডিম’-এর খোঁজ করি। আশ্চর্য সব স্বপ্ন দেখি। দুরন্ত সব ব্যাপার স্যাপার করি। অন্তত করার ইচ্ছে প্রাণপণে মনে পুষে রাখি। অন্যদের কাছে যা উদ্ভট, আজব কিংবা কিম্ভুত কিন্তু আমাদের কাছে তা হত ভীষণ সত্যি। সেই হয়তো কোনও আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, কোনও ছোট্ট স্বপ্ন, বা এমন এক বিশ্বাস — যা আমাদের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও একটু রঙিন করে তুলত। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ ছবি যেন সেই স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়, এই ক্রমাগত পিষতে থাকা পৃথিবীতে সেই সহজ অথচ রঙিন স্বপ্ন ফের দেখার সাহস শেখায়। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ ইতিমধ্যেই আদায় করে নিয়েছে সমালোচক ও জনতা -দুই মহলের ভূয়সী প্রশংসা। এবার এই ছবি তৈরির নানান মুহূর্তের ঘটনা, পর্দার ওদিকের না জানা সব ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে আড্ডায় মাতলেন ছবির পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল ও অন্যতম প্রধান দুই অভিনেতা - মহাব্রত বসু এবং অনুমেঘা ব্যানার্জি।
’পক্ষীরাজের ডিম’ দেখতে দেখতে অদ্ভুত এক ভাললাগার পুকুরে টুপ করে ডুব দিতে দিতে টের পাওয়া যায় ছেলেবেলায় ফেলে আসা সত্যজিৎ রায়ের গল্পের স্বাদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে সিরিজের মনভালকরা সেইসব আশ্চর্য নিপাট জগতের গন্ধ। এমনকী এক ঝলকে উঁকি মেরে পালিয়ে যায় টিনটিন কমিকসের আশ্চর্য সুন্দর স্মৃতি। কেন এরকম মনে হয়? খানিক হেসে পরিচালকের জবাব, “আমিই তো তাই চেয়েছিলাম যাতে দর্শকের এরকম মনে হয়, মনে পড়ে তাই হয়তো। ক্যামেরায় সৌমিক হালদার না থাকলে তা অবশ্য অসম্ভব হয়ে যেত। যাই হোক, এই ছবি সত্যজিৎ রায়, স্টিফেন হকিংকে ট্রিবিউট জানাতেই তৈরি করা। এ ছবি হওয়ার কথা ছিল সত্যজিতের জন্মশতবার্ষিকীতে। ভেবেছিলাম সে উপলক্ষে কী করা যায়। আসলে আমার ছোটবেলার জীবনের অনেকটা অংশ জুড়েই ছিল সত্যজিতের গল্প, ইলাস্ট্রেশনস, শীর্ষেন্দুর সেইসব দারুণ অদ্ভুতুড়ে উপন্যাস এবং অবশ্যই টিনটিন। একটু বড় হতে ঝোঁক বাড়ল বিজ্ঞানে। স্টিফেন হকিং, আইনস্টাইন নাড়াচাড়া করতে শুরু করলাম। যতটুকু বুঝলাম তাক লেগে গেল। তাই শেষমেশ নিজেই লিখে ফেললাম এই গল্প আর চিত্রনাট্য। খুব চেয়েছি আমার কিশোরবেলায় সেইসব নিঃঝুম দুপুরে সত্যজিৎ, শীর্ষেন্দু আমার মনটাকে যেমন রঙিন করে রাখতেন,আমার কল্পনার জগতকে ওই উঁচুতে নিয়ে যেতেন, দর্শককেও যেন তাঁদের ছেলেবেলায় নিয়ে যেতে পারে। আর ছোটদের নতুন করে ভাবাতে পারে।”
আর টিনটিনের ‘লাল বোম্বেটের গুপ্তধন’-এর একটি বিখ্যাত অংশের সিকোয়েন্স তো আছে ছবিতে? শোনামাত্রই শিশুর মতো হেসে উঠে পরিচালক বলে উঠলেন, “একেবারেই তাই। কমিকসে ছিল ‘গুপ্তধন’ আর এখানেও সেটা গুপ্তধন -তবে চিরাচরিত নয়, রূপক হিসাবেই ব্যবহার করেছি। যাঁর কাছে যা অমূল্য অথচ অধরা তা পাওয়া তো গুপ্তধনের-ই সামিল। তাই না?”
কথা উঠল শিমুলতলা নিয়েও। ছবিতে যার নাম আকাশগঞ্জ। পর্দায় দেখতে দেখতে তা মনে হয় এই জায়গায় বোধহয় শীর্ষেন্দুর ‘পাগলা সাহেবের কবর’-এর পটভূমি কিংবা ‘পটাশগড়ের জঙ্গল’-এর। আবার পরমুহূর্তেই হয়ত মনে হচ্ছে প্রফেসর শঙ্কুর গিরিডির পাড়া, ওই দূরে বয়ে চলেছে উশ্রী নদী। শুনে মাথা নাড়িয়ে স্মিত হেসে পরিচালকের জবাব – “শিমুলতলা আমার ভীষণ প্রিয় জায়গা। কোথাকার মাটি ঝুরঝুরে, নুড়ি পাথরের রং -সব আমার জানা। ওই যে বললাম, আমার এই ছবি সত্যজিৎ-শীর্ষেন্দুকে ট্রিবিউট। পাশাপাশি এটা আমাদের ছোটবেলাকেও মনে করানো,তাই ইচ্ছে করেই, পরিকল্পনা করে এই এসেন্সটা আনার চেষ্টা করেছি।” আর পক্ষীরাজের ডিম? সেটা কী? জবাব আসে – “ ওটা তো রূপক। ওখানেই মিশেছে আমার কল্পনা। ভিনগ্রহী মানুষ এলে ভিনগ্রহী কীটপতঙ্গরা আসতে পারে না কেন আমাদের পৃথিবীতে? আলবৎ পারে, বিশ্বাস আমার। ঠিক যেমন বিশ্বাস করতেন স্টিফেন হকিং। সেখান থেকেই মাইক্রোঅর্গ্যানিজম। ছবিতেও তাই দেখিয়েছি।”
খানিক থেমে সৌকর্য ফের বলে ওঠেন, “আলো সবসময় সরলরেখায় চলে না, প্রাথমিকভাবে বলেছিলেন আইনস্টাইন। এরপর তাতে সায় দিয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন হকিং-ও। ছবিতে দেখিয়েছি, আলো যদি সরলরেখায় না চলে, তাহলে কী হয়? কী হতে পারে? সেটাই আমার কল্পনা, ফ্যান্টাসি। আর এই ভাবনা থেকেই ‘পক্ষীরাজের ডিম’-এ চলে আসে ভিনগ্রহের ব্যাপার স্যাপার। তাতে জুড়ে যায় ‘ঘোঁতন’, ‘পপিন্স’ এবং ‘প্রফেসর বটব্যাল’ (অনির্বাণ ভট্টাচার্য)।
ছবিতে ‘ঘোঁতন’-এর ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মহাব্রত বসু-কে। সৌকর্যের ‘রেনবো জেলি’র পর ফের একবার ঘোঁতনের জামা পরেছেন মহাব্রত। এবং বড় সুন্দর করে তা পরেছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রত্যেকের ভিতরেই একজন ঘোঁতন রয়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে সে ছোটবেলায় হারিয়ে গিয়েছে, কারও কারও মনে সে এখনও আছে, কিন্তু ঘুমিয়ে আছে। এ ছবি সেইসব ঘোঁতনদের জন্য। সৌকর্যদা হাতে ধরিয়ে অভিনয় শিখিয়েছেন, দিনের পর দিন ওয়ার্কশপ করিয়েছেন। আমিও সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।” অল্প চুপ করেই তড়বর করে সহজ ভঙ্গিতে মহাব্রত বলে ওঠেন, “এই ছবিতে যা দৌড়েছি না! ব্যাপারে বাপ্! একবার তো শুটিংয়ের সময় দৌড়তে দৌড়তে গভীর করে কাটা নালার মধ্যে পড়েই গেছিলাম! গরু যাতে পালাতে না পারে তার জন্য ওসব খুঁড়ে রাখা হয়, আর আমি গিয়ে পড়েছিলাম ওর মধ্যে। খুব আনন্দ পেয়েছি এই ছবিতে অভিনয় করে। ভবিষ্যতেও সুযোগ পেলে অভিনয় করতে চাই!” হাসতে হাসতে বলে ওঠেন ‘ঘোঁতন’।
পাশ থেকে ‘পপিন্স’ অর্থাৎ অনুমেঘা একেবারে নিজের চরিত্রের ভঙ্গিতেই মিষ্টি অথচ সুচারু ভঙ্গিতে জানালেন, অন্য কাউকে নয়, তিনি নিজের সঙ্গেই পপিন্স -এর ভারি মিল খুঁজে পান। তিনি যতুটুকু ছবিতে অভিনয় করেছেন তা হাতে ধরে শিখিয়েছেন তাঁর 'দাদা' অর্থাৎ ছবির পরিচালক। জানালেন মহাব্রত-র সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের কথা, অনির্বাণ ভট্টাচার্য কতটা সাধারণ সেকথাও স্পষ্টভাবে জানাতে ভুললেন না অভিনেত্রী – “মহাব্রতদার সঙ্গে তো আড্ডা হতই... আর আমার যেহেতু অ্যাস্ট্রোফিজিক্স নিয়ে খুব আগ্রহ তাই সেসবের নানান বিষয় নিয়ে আড্ডা মারতেন অনির্বাণদা। জানতে চাইতেন। এতবড় তারকা হয়েও খুব সাধারণ তিনি। আমাদের অভিনয়ের টুকটাক টিপস দিয়েছেন গল্পছলেই।” অনুমেঘা এখন উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রী। মিষ্টি হেসে জানান, এখন স্কুলের বন্ধুরাও তাঁকে ‘পপিন্স’ বলে ডাকতে শুরু করেছেন।
তবে শুধুই মজা, জিয়া নস্ট্যাল করা ছাড়াও এই ছবির পরতে পরতে ধরা পড়েছে জীবন যাপনের গুরুত্বপূর্ণ দর্শন। ভীষণ সোজাসাপটা ভঙ্গিতে। যা বুঝতে পারলে মনকেমন করে ওঠে। তাই তো আড্ডার শেষে সৌকর্য সে প্রসঙ্গে বলে ওঠেন -“ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাই ছবিতেও বলার চেষ্টা করেছি, যে মানুষ যতই সফল হোক না কেন তিনি যদি নিজের দেশের মাটিকে অস্বীকার করেন তাহলে কোনওদিনও মহান হয়ে উঠতে পারবেন না! দেশকে ভালবাসতে হবে।”
আসলে, বয়সের ভারের তোয়াক্কা না করেই প্রতিটা মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে আছে নিজের এক নিজস্ব জগৎ — যেখানে বাস্তব আর কল্পনা হাত ধরাধরি করে। এবং তাকেই উস্কে দেয় 'পক্ষীরাজের ডিম'। এ ছবি যেন যেন এক নরম রোদের দুপুর — চোখ ছলছল করে ওঠে, আবার পাক খেয়ে উঠে আসে নির্ভেজাল হাসিও। ‘পক্ষীরাজের ডিম’ মনে করিয়ে দেয়, জীবন যতই জটিল হোক, একটু নির্ভেজাল ভাললাগা, কিছু ছোট ছোট বিশ্বাস, আর একটু স্বপ্ন দেখার জেদ থাকলেই শেষপর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যায়।
নানান খবর
এবার রুপো বন্ধক রেখেও মিলবে ঋণ, জেনে নিন খুঁটিনাটি
কলকাতায় ম্যানহোল থেকে পচা গলা দেহ উদ্ধার! ঘটনা ঘিরে চরম চাঞ্চল্য, আতঙ্কে এলাকাবাসী
নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির দাবিতে কমিশনকে ১৩ দফা চিঠি মহম্মদ সেলিমের
স্ত্রীর প্রসবের সময়ে এ কী কাণ্ড? হাসপাতালেই মামাকে পিটিয়ে মারল যুবক, হাড়হিম ঘটনা এই শহরে
ভারত জিতলে জেমাইমার গিটারের সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান গাওয়ার আবদার জুড়লেন সানি
৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর ক্যাম্প তৃণমূলের, বিএলও-কে এক মিনিটও একা না ছাড়া যাবে না, ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ অভিষেকের
ছিলেন ক্রিকেটার, অধিনায়ক ও সাংসদ, এবার মন্ত্রীও হয়ে গেলেন আজহার
গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল সেবনের ফল মারাত্মক, পরিবর্তনে হতে পারে শিশুর মস্তিষ্কের রসায়নের
পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি, দুধিয়ার হিউম পাইপ সেতুর নিচে ফুলে উঠছে বালাসন খোলা নদী, বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা
‘কোচের একটা কথাই বদলে দিয়েছিল মানসিকতা’, অকপট হরমন
ধস নামালেন জস, মেয়েদের ইতিহাস গড়ার পরের দিনই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ল্যাজেগোবরে হল টিম ইন্ডিয়া
পাকিস্তানের পাশে চীন, সমস্যায় পড়তে পারে ভারত
ভারত–অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে রেকর্ডের ছড়াছড়ি, জেমাইমাই গড়লেন একগুচ্ছ নজির
হ্যালোইনের ভূতে কলকাতা কাঁপে! বিদেশি হুল্লোড় শিশুমনের আলো না আঁধার?
এখনও কাপ পাননি সূর্যরা, এরই মধ্যে আরও একটি এশিয়া কাপ চলে এল
ভারতের কাছে হারের পরেই অবসরের ইঙ্গিত অজি অধিনায়কের
যে মেয়েটা বিয়ে না করে ফুটবলার হতে চায়, তার চোখে সন্ধ্যাতারা হয়ে ফুটুন জেমাইমা
নিউরো সার্জারিতে নতুন দিশা, ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিতে লাগছে না কাটাছেঁড়া, বিনা অস্ত্রোপচারেই সারছে মস্তিষ্কের জটিল রোগ
২০০২ সালের ভোটার তালিকা খুঁজছেন? রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয়, তাহলে পাবেন কোথায়? রইল হদিশ
সপ্তাহান্তে ফের যানজটের আশঙ্কা, বন্ধ থাকছে দ্বিতীয় হুগলি সেতু, নির্দেশিকা জারি কলকাতা পুলিশের
৬ কিমি বেগে হাঁটতে হবে, তার নীচে হলেই গুনতে হবে জরিমানা, অদ্ভূত নিয়ম চালু করল ইউরোপের এই দেশ
দুটি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে তিনটি পৃথিবী, সামনে এল অবাক করা আবিষ্কার
শিশুদের জন্য কাজ করে শিশুদেরই পণবন্দি! রোহিতের বিপুল টাকা আটকে রেখেছিল সরকার? মুম্বই-কাণ্ডে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য
দূষণের গ্রাসে দিল্লি, সামনে এল নতুন ভাইরাসের কীর্তি