শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সম্পূর্ণ খবর
নিজস্ব সংবাদদাতা | ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ১৮ : ৫৩Sourav Goswami
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজনীতিতে বস্তির কথা কেউ বলতে চায় না — কিংবা বস্তিবাসীদের কথাও না। কিন্তু বিহার বিধানসভা নির্বাচনে দিঘা কেন্দ্র থেকে মহাগঠবন্ধনের প্রার্থী ও সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন নেত্রী দিব্যা গৌতম সেই নীরবতাকে ভেঙেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে সেই মানুষগুলোকেই, যাদের অস্তিত্বকেই সমাজ এতদিন উপেক্ষা করেছে।
৩৪ বছর বয়সী দিব্যা গৌতম পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা, কিন্তু তাঁর আসল পরিচয় রাজনীতির ময়দানেই। ছাত্ররাজনীতি থেকেই তাঁর পথচলা শুরু। তাঁর কাছে রাজনীতি ক্ষমতা দখলের উপায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার হাতিয়ার। তিনি বলেন, “রাজনীতি আমাদের বদলে দেয় — তাই আমাদেরই রাজনীতিকে বদলাতে হবে।”
দিব্যা গৌতমের প্রচারে নেই কোনও চাকচিক্য, নেই বড় সভা বা ব্যয়বহুল প্রচারযন্ত্র। সংকীর্ণ গলি পেরিয়ে পায়ে হেঁটে প্রচার চালান তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকেন ছাত্রছাত্রী ও তরুণ কর্মীরা — কেউ রিকশায়, কেউ সাইকেলে, কেউবা মোটরবাইকে। ব্যানার-ফেস্টুনের আড়ম্বরের বদলে তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন — মুদ্রাস্ফীতি, শিক্ষার সুযোগ আর কর্মসংস্থানের মতো দৈনন্দিন সমস্যার প্রসঙ্গে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র তাঁর প্রচারে যোগ দিয়েছে। তাঁদের স্লোগান — “এক হি নারা, তিন তারা” — সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের তিন তারা-ওয়ালা লাল পতাকার প্রতি ইঙ্গিত। এমনকি কর্ণাটক থেকেও কিছু ছাত্র তাঁর সমর্থনে প্রচারপত্র বিলি করছেন।
“আমাদের প্রচার মানুষ চালাচ্ছে। আমাদের কোনও বড় ফান্ডার নেই, পিআর টিমও নেই — আমরা মানুষকেই ভরসা করি,” বলেন দিব্যা। তাঁর কথায়, “গরিব, মহিলা ও সাধারণ মানুষ মনে করেন রাজনীতি তাঁদের জন্য নয়। কারণ রাজনীতিকে ‘বাহুবলি’দের ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে — এটা আসলে জনগণকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার কৌশল।”
অনীসাবাদের সরু রাস্তায় প্রচারের ফাঁকে এক চায়ের দোকানে বসে দিব্যা জনতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। পাশেই মোবাইল দোকান, স্টেশনারি স্টল আর এক ছোট মাজার — যার দেওয়ালে হিন্দু দেবতার ছবিও টাঙানো। সেখানে উপস্থিত জনতাকে তিনি বলেন, “পরিবর্তনের সময় এসেছে। ভোট দিয়ে সেই পরিবর্তনের অংশ হোন।”
প্রচারের মাঝেই তিনি মাজারে প্রণাম জানিয়ে মাটিতে বসে পড়েন। কয়েকজন মহিলা, যারা সেখানে প্রার্থনা করতে এসেছিলেন, তাঁকে ঘিরে গল্প শুরু করেন। তাঁদের একজন বলেন, “ও রাজনীতিবিদদের মতো আচরণ করেন না। ও যেন আমাদের মেয়ের মতো।” দিব্যা বলেন, “আমরা এমন একটা সমাজ গড়তে চাই, যেখানে হিন্দু-মুসলমান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী — সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বাস করতে পারবে।”
এরপর দলটি পেরিয়ে যায় রাঘোটোলা এলাকায় — একটি শহুরে গ্রাম। সেখানেও তাঁকে যোগ দেন আরজেডি-র স্থানীয় কর্মীরা। মহাগঠবন্ধনের মিত্র দলগুলোর এই মাঠের ঐক্য দৃশ্যমান।
দিব্যা গৌতমের এই নীরব অথচ প্রাণবন্ত প্রচার ইতিমধ্যেই জাতীয় স্তরে দৃষ্টি কেড়েছে। দেশের নানা প্রগতিশীল সংগঠন তাঁর সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে। কেরালার নাগরিক সমাজ তাঁকে সমর্থন জানিয়েছে। তুষার গান্ধী, ড. সুনীলম (পদার্থবিদ সুনীল মিশ্র) প্রমুখ প্রবীণ সমাজকর্মীরা তাঁর হয়ে প্রচার করেছেন। শীঘ্রই যোগেন্দ্র যাদব তাঁর সমর্থনে একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিব্যার লড়াই একেবারে ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথ’-এর মতো। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি নেতা সঞ্জীব চৌরাসিয়া দুইবারের বিধায়ক, স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং বিপুল অর্থবল ও সাংগঠনিক শক্তির অধিকারী। বিজেপি-জেডিইউ জোটের বিরুদ্ধেই তাঁর লড়াই।
এছাড়া জন সুরাজ পার্টি বিট্টু সিং-কে প্রার্থী করেছে — এক উচ্চবর্ণ নেতা, যিনি ত্রিভুজ লড়াই তৈরি করেছেন। যদিও ওই দলে সাংগঠনিক ভিত্তি নেই, প্রাশান্ত কিশোরের ভাবমূর্তি আর কিছু ভাড়াটে প্রচারকই তাদের ভরসা। তবুও ভোটে বিভাজন তৈরি করার সম্ভাবনা অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
২০০৮ সালের সীমা পুনর্নির্ধারণের পর গঠিত দিঘা আসন প্রথমে ২০১০ সালে জেডিইউ জেতে, তারপর থেকে বিজেপির দখলেই আসনটি। এই প্রেক্ষাপটে আরজেডি-র মাঠ পর্যায়ের সমর্থন দিব্যার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনী উত্তাপ যত বাড়ছে, দিব্যা গৌতমের জনসংযোগমূলক প্রচার ততই গতি পাচ্ছে। পাটনার বস্তি থেকে শুরু করে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পর্যন্ত, তাঁর লড়াইয়ের বার্তা আলোচনায় উঠে আসছে।
যদি তিনি সঞ্জীব চৌরাসিয়াকে পরাজিত করতে পারেন, তাহলে শুধু একটি আসন নয় — তিনি জিতে নেবেন এক রাজনৈতিক ইতিহাসও। তখন তাঁকে মনে রাখা হবে ‘দিঘার জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে — সেই তরুণ নেত্রী, যিনি বিহারের রাজনীতিতে আবার ফিরিয়ে আনলেন জনগণের প্রগতিশীল রাজনীতির আত্মা।
নানান খবর
এবার রুপো বন্ধক রেখেও মিলবে ঋণ, জেনে নিন খুঁটিনাটি
হ্যালোউইনের সন্ধ্যায় ‘সবথেকে মিষ্টি ভ্যাম্পায়ার’-এর সন্ধান দিলেন আয়ুষ্মান, দেখলে মন গলবে আপনারও
কলকাতায় ম্যানহোল থেকে পচা গলা দেহ উদ্ধার! ঘটনা ঘিরে চরম চাঞ্চল্য, আতঙ্কে এলাকাবাসী
নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির দাবিতে কমিশনকে ১৩ দফা চিঠি মহম্মদ সেলিমের
কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে সুমন মৈত্রর 'অ২', ছবিতে ঋত্বিক-যোগ প্রসঙ্গে কী জানালেন পরিচালক?
ভারত জিতলে জেমাইমার গিটারের সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গান গাওয়ার আবদার জুড়লেন সানি
৪ নভেম্বর থেকে এসআইআর ক্যাম্প তৃণমূলের, বিএলও-কে এক মিনিটও একা না ছাড়া যাবে না, ভার্চুয়াল বৈঠকে নির্দেশ অভিষেকের
ছিলেন ক্রিকেটার, অধিনায়ক ও সাংসদ, এবার মন্ত্রীও হয়ে গেলেন আজহার
গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল সেবনের ফল মারাত্মক, পরিবর্তনে হতে পারে শিশুর মস্তিষ্কের রসায়নের
পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টি, দুধিয়ার হিউম পাইপ সেতুর নিচে ফুলে উঠছে বালাসন খোলা নদী, বাড়ছে বন্যার আশঙ্কা
রণবীরের স্ত্রী হয়েও কাপুর পরিবারে একঘরে আলিয়া? এক পোস্টে তোলপাড় চারদিক, শুরু নয়া বিতর্ক
বাঙালিয়ানাকে দৃঢ়ভাবে হাতিয়ার করেই বদলাচ্ছে ‘হইচই’, ‘বোল্ডলি বাঙালি’-র উদ্যোগে সামিল কোন কোন তারকা?
সোনামণিকে 'স্পেশাল' তকমা দিলেন প্রতীকের মা! খুব তাড়াতাড়িই প্রেম পরিণতি পেতে চলেছে জুটির?
‘কোচের একটা কথাই বদলে দিয়েছিল মানসিকতা’, অকপট হরমন
ধস নামালেন জস, মেয়েদের ইতিহাস গড়ার পরের দিনই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ল্যাজেগোবরে হল টিম ইন্ডিয়া
পাকিস্তানের পাশে চীন, সমস্যায় পড়তে পারে ভারত
ভারত–অস্ট্রেলিয়া সেমিফাইনালে রেকর্ডের ছড়াছড়ি, জেমাইমাই গড়লেন একগুচ্ছ নজির
হ্যালোইনের ভূতে কলকাতা কাঁপে! বিদেশি হুল্লোড় শিশুমনের আলো না আঁধার?
এখনও কাপ পাননি সূর্যরা, এরই মধ্যে আরও একটি এশিয়া কাপ চলে এল
ভারতের কাছে হারের পরেই অবসরের ইঙ্গিত অজি অধিনায়কের
যে মেয়েটা বিয়ে না করে ফুটবলার হতে চায়, তার চোখে সন্ধ্যাতারা হয়ে ফুটুন জেমাইমা
নিউরো সার্জারিতে নতুন দিশা, ইন্টারভেনশনাল রেডিওলজিতে লাগছে না কাটাছেঁড়া, বিনা অস্ত্রোপচারেই সারছে মস্তিষ্কের জটিল রোগ
২০০২ সালের ভোটার তালিকা খুঁজছেন? রাজ্যের সিইও দপ্তরের ওয়েবসাইট নিষ্ক্রিয়, তাহলে পাবেন কোথায়? রইল হদিশ
‘ইন্ডাস্ট্রির বৃহত্তর স্বার্থের জন্য নিজের স্বার্থের কথা ভাবলে চলে না’ বড়দিন থেকে নিজের ছবি পিছনো নিয়ে আর কী বললেন শিবপ্রসাদ?